Loading...
umrah hajj bangla book

Umrah FAQs | ওমরা করার নিয়ম | ওমরা হজের নিয়ম কানুন | umrah hajj bangla book | umrah hajj procedure

ইহরাম পরার আগে গোসল করা কি ?
উত্তরঃ সুন্নত

ইহরামের কাপড়ের পরিমাপ কি ?
উত্তরঃ সাবালক পুরুষদের ক্ষেত্রে শরীরের নীচের অংশে লুঙ্গির মত করে পরার জন্য আড়াই হাত বহরের আড়াই গজের এক টুকরা সাদা কাপড় আর গায়ে চাদরের মত করে পরার জন্য একই বহরের তিন গজ কাপড় পরতে হয়, অর্থাৎ ইহরামের ছোট অংশটি লুঙ্গি হিসেবে এবং বড় অংশটি চাদর হিসেবে পরতে হয়। আর পুরুষ শিশু বা নাবালকদের ক্ষেত্রে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী দুই টুকরা কাপড় ২.৫ : ৩.০ আনুপাতিক  হারে (একটি ছোট, একটি বড়) ইহরামের কাপড় পরাবেন। তবে নাবালক বা শিশু পুরুষদের জন্য ইহরাম ওয়াজিব নয়। তাই কোন কারণে শিশুদের ইহরাম না পরাতে পারলে দম বা সাদকা দিতে হবে না।
মহিলাদের ইহরামের আলাদা কোন পোশাক নেই এবং তাঁরা সেলাই যুক্ত পোশাক পরিধান করতে পারবেন। তবে মহিলারা ইহরামের হালতে নেকাব এবং হাতমুজা পরবেন না, অর্থাৎ হাতের কবজি পর্যন্ত খোলা রাখবেন। তবে পরপুরুষ যাতে চেহারা দেখতে না পায় সেজন্য বড় ওড়না বা এই জাতীয় কোন কাপড় দিয়ে চেহারা ঢেকে রাখবেন।

ইহরামের কাপড়ের রঙ কি কি হতে পারে ?
উত্তরঃ যে কোন রঙের দুই টুকরা সেলাই বিহীন কাপড় পরিধান করে ওমরাহ করা যায় তবে সাদা কাপড় পরে ওমরাহ করা একটি মুস্তাহাব। 

ইহরাম অবস্থায় গোসল করতে চাইলে কি করণীয় ?
উত্তরঃ সেলাই বিহীন যে কোন কাপড় পরে গোসল করা যাবে, আবার অতিরিক্ত ইহরামের কাপড় সাথে থাকলে পরিধেয় ইহরামটি পরে গোসল করে অন্যটি পরতে পারবেন।

কখন ইহরাম পরতে হয় ?
উত্তরঃ অবশ্যই মিকাত অতিক্রম করার আগে, তবে যেহেতু ফ্লাইটের ভিতর ইহরাম পরা কষ্টকর তাই ঢাকা, চিটাগাং বা সিলেট থেকে মক্কার উদ্দেশ্যে সরাসরি জেদ্দার (বাংলাদেশ বিমান / সৌদি এয়ারলাইন্স) ফ্লাইটে ভ্রমণ করলে আপনার বাড়ি থেকে বা ফ্লাইটে উঠার আগে এয়ারপোর্টে ইহরাম পরে নিতে পারেন, আর যদি মক্কার উদ্দেশে ট্রানজিট ফ্লাইটে ভ্রমণ করেন (কুয়েট / গালফ / এয়ার এরাবিয়া ইত্যাদি) তবে যেখানে ট্রানজিট হবে সেখানে পরে নিতে পারেন। আর যদি মদিনার উদ্দেশে মদিনা বা জেদ্দা এয়ারপোর্টে ভ্রমণ করেন তবে মদিনা থেকে মক্কা আসার সময় হোটেল থেকে ইহরাম পরে বের হতে পারেন অথবা জুল হুলাইফা মিকাতে (মদিনার মিকাত) ইহরাম পরে নিতে পারেন।

মিকাত কাকে বলে এবং এগুলো কি কি ?
উত্তরঃ মিকাত বলতে কোন স্থানের সীমানাকে বুঝানো হয় অর্থাৎ যে স্থান থেকে ওমরাহ করার নিয়ত করতে হয় বা ইহরাম বাঁধতে হয় সেটিই মিকাত। সেগুলো হল – 

যুলহুলাইফা (৪৫০ কি.মি.): বর্তমানে এটাকে ‘বীরে আলী’বলা হয়ে থাকে। এটি মদিনাবাসী এবং জর্ডান বা সেদিক থেকে আগতদের জন্য মিকাত।
যাতে র্ইক (৯৪ কি.মি.): এটি ইরাক, ইরান, খুরাসান, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান, চীন, মঙ্গোলিয়া এবং রাশিয়া বা সেদিক থেকে আগতদের জন্য মিকাত।
ক্বরণে মানাজিল (৭৫ কি.মি.): এটি ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, জাপান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ওমান, দুবাই, আরব আমিরাত  বা সেদিক থেকে আগতদের জন্য মিকাত।
ইয়ালামলাম (৯২ কি.মি.): এ স্থানটি ইয়ামানের অধিবাসী এবং সেদিক থেকে আগতদের জন্য মিকাত। সমুদ্র উপকূল এলাকার যারা নৌপথে জেদ্দায় যান, তারা সবাই জাবালে ইয়ালামলামের এ পথেই চলাচল করেন।
জুহফা (১৮৩ কি.মি.): এটি তুর্কিস্তান, রোম, জার্মানি, ফ্রান্স, ইউরোপ মহাদেশ এবং সিরিয়া, মিসর, আলজেরিয়া, সুদান, আফ্রিকা মহাদেশ  বা সেদিক থেকে আগতদের জন্য মিকাত।

কখন ইহরাম বাঁধতে বা নিয়ত করতে হয় ?
উত্তরঃ যে কোন দেশ থেকে বা মদিনা থেকে মক্কার উদ্দেশ্যে ফ্লাইটে জেদ্দা গেলে যখন ফ্লাইট থেকে ঘোষণা দেয়া হবে যে – “কিছুক্ষণের মধ্যে আমরা মিকাত অতিক্রম করবো” ঠিক সেই সময়টি অনুমান করে আকাশে ফ্লাইটে অবস্থানকালে ওমরাহর নিয়ত করতে হবে। ফ্লাইট অবতরণ করার আনুমানিক ৫০ মিনিট পূর্বে এই ঘোষণা দেয়া হয় এবং অবতরণ করার আনুমানিক ৩০ মিনিট পূর্বে ফ্লাইটটি মিকাত অতিক্রম করে।
আর কেই যদি প্রথমে মদিনা যেতে চান এবং মদিনা থেকে গাড়িতে বা ট্রেনে মক্কায় গিয়ে ওমরাহ করতে চান – গাড়িতে যাওয়ার ক্ষেত্রে আনুমানিক ২০ মিনিটের রাস্তা অতিক্রম করার পর যুলহুলাইফা বা বীরে আলী মিকাত পাওয়া যাবে  এবং সেখান থেকেই ওমরাহর নিয়ত করতে হবে। কিন্তু ট্রেনে মক্কায় যাওয়ার ক্ষেত্রে ট্রেনটি বীরে আলী মিকাত হয়ে মক্কা যায়না এবং মিকাত নির্দেশক কোন ঘোষণা বা নির্দেশনা সাধারনত দেয়না তাই মদিনা থেকে ট্রেন ছাড়ার ৫/১০ মিনিট পরেই ওমরাহর নিয়ত করে নিবেন।

ওমরাহ’র নিয়ত কি ?
উত্তরঃ নিজের জন্য ওমরাহ পালন করতে চাইলে বলবেন “লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা উমরহ্‌”। আরবিতে না পারলে বাংলায় বলতে পারেন “আল্লাহ্‌ আমি ওমরাহ’র নিয়ত করছি”।
অন্য কারো জন্য ওমরাহ পালন করতে চাইলে (যদি পূর্বে আপনি নিজের ওমরাহ পালন করে ত্থাকেন তবে) আরবিতে উচ্চারণ করবেন “ আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা উমরতান মিং ফুলান”, অথবা বাংলায় বলবেন “হে আল্লাহ্‌ আমি অমুকের (তার নাম ধরে) পক্ষ হতে ওমরাহ পালনের জন্য হাজির”।
যদি রুগ্নতার ভয় থাকে বা শত্রুর ভয়ের কারণে ওমরাহ পালনে সমর্থ না হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তবে ইহরাম বাঁধার সময় শর্ত করে নেয়া জায়েজ আছে। সেক্ষেত্রে বলতে পারেন “ফায়িন হাবাসানি হাবিসুন ফামাহাল্লি হাইছু হাবাস্তানী”, অর্থাৎ - যদি কোন বাধাদানকারী আমাকে বাঁধা দেয়, তাহলে যেখানে বাধাগ্রস্থ হবো সেখানেই আমি হালাল হয়ে যাবো।
উল্লেখ্য যে, পুরষদের আরবি বা বাংলা উভয় ভাবেই মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করতে হয় (নিজেরটা নিজে শোনা যায় এমন আওয়াজে) । কিন্তু মহিলারা মনে মনে নিয়ত করবেন।

কখন তালবিয়াহ্‌ পাঠ করা শুরু করতে হয় ?
উত্তরঃ ওমরাহ’র নিয়ত করার পর থেকে।

কতক্ষণ পর্যন্ত তালবিয়াহ্‌ পাঠ করবো ?
উত্তরঃ তাওয়াফ শুরু করার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত।

তালবিয়াহ্‌’র বাংলা অর্থ কি ?
উত্তরঃ
উচ্চারণ - লাব্বাঈক আল্লাহুম্মা লাব্বাঈক
অর্থ - আমি হাজির হে আল্লাহ! আমি হাজির
উচ্চারণ - লাব্বাঈক, লা-শারীকা-লাকা লাব্বাঈক
অর্থ - আপনার ডাকে সাড়া দিতে আমি হাজির। আপনার কোন অংশীদার নেই।
উচ্চারণ - ইন্নাল হামদা ওয়ান্ নি’আ মাতা লাকা ওয়াল-মুলক
অর্থ - নিঃসন্দেহে সমস্ত প্রশংসা ও সম্পদরাজি আপনার এবং একচ্ছত্র আধিপত্য আপনার।
উচ্চারণ - লা শারীকালাক
অর্থ - আপনার কোন অংশীদার নেই।

মহিলাদের মাসিকের হালদে বা মাসিক চলাকালীন সময়ে ইহরাম করার নিয়ম কি ?
উত্তরঃ এই সময় মহিলারাও ইহরাম বাঁধবেন বা নিয়ত করবেন, তালবিয়াহ্‌ পাঠ করবেন কিন্তু তাওয়াফ করা, সায়ি করা বা সালাত আদায় থেকে বিরত থাকবেন এবং মাসজিদুল হারামে প্রবেশ করবেন না। মাসিক হওয়া শেষ হয়ে গেলে আয়েশা মসজিদ থেকে নিয়ত করে এসে ওমরাহ করবেন।

পুরুষরা ইহরাম পরা অবস্থায় কি জাঙ্গিয়া, মুজা, টুপি, জুতা বা অন্য কোন কাপড় পরতে পারবেন ?
উত্তরঃ না, ইহরামের সেলাই বিহীন দুই টুকরা কাপড় ছাড়া অন্য কোন কাপড় পরা যাবেনা, তবে স্যান্ডেল, ঘড়ি বা বেল্ট পরা যাবে এবং এগুলোতে সেলাই থাকলে কোন সমস্যা নাই।

ইহরাম পরা অবস্থায় আতর লাগানো যায় ?
উত্তরঃ না, ইহরাম পরা অবস্থায় আতর লাগানো যায় না, তবে গোসলের পর ইহরাম পরার আগে চাইলে আতর লাগাতে পারেন এবং ইহরাম অবস্থায় যদি সেই আতরের গন্ধ থাকে তাতে কোন সমস্যা নেই।

তালবিয়া কি মনে মনে পরা যায় ?
উত্তরঃ পুরুষদের একটু উঁচু আওয়াজে পড়তে হয় যেন একে অপরে শোনা যায় কিন্তু মহিলাদের মনে মনে পড়তে হয়।

মসজিদে ঢুকে দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ বা দুখুলুল মসজিদ পড়তে হয়, কিন্তু ইহরাম অবস্থায় ওমরাহ করার উদ্দেশে  মাসজিদুল হারামে প্রবেশ করে কি এই সালাত আদায় করবো ?
উত্তরঃ না, এই অবস্থায় তাহিয়্যাতুল মসজিদ বা দুখুলুল মসজিদ পরা যাবে না, তবে যদি কোন ফরয সালাতের জামাত পেয়ে যান তবে আগে সেটি আদায় করে নিতে হবে এবং কোন ফরয নামাজ ক্বাযা হয়ে গেলে সেটি আদায় করতে হবে, এরপর ওমরাহ করা শুরু করতে হবে।

ইহরামকালে কি দুই রাকাত নামায আদায় করা ওয়াজিব ? 
উত্তরঃ না, ইহরামের বিশেষ কোনো নামায নেই।

জমজমের পানি দাড়িয়ে নাকি বসে খেতে হয় ?
উত্তরঃ শুধুমাত্র একজায়গায় একসময় দাড়িয়ে খাওয়া সুন্নত আর সেটি হল তাওয়াফের পরে সায়ি করার আগে, আর বাকি যেকোন সময় বসে খেতে হবে।

ইহরামকালে নিষিদ্ধ কাজগুলো কি কি ?
উত্তরঃ

  • শরীরের যে কোন অংশের চুল কিংবা পশম কাটা বা ছিঁড়ে ফেলা
  • নখকাটা
  • ঘ্রাণযুক্ত তৈল বা আতর লাগানো
  • স্বামী-স্ত্রীর সংগম করা অথবা যৌন উত্তেজনামূলক কোন আচরণ বা কোন কথা বলা
  • শিকার করা
  • কোন জীবজন্তু হত্যা করা
  • বিয়ের প্রস্তাব দেয়া বা এই জাতীয় কোন ঘটকালি করা।
  • পুরুষদের মাথায় টুপি পড়া বা কোন কিছু দিয়ে মাথা ঢাকা
  • পুরুষদের ক্ষেত্রে পায়ের পিছনের গোড়ালির অংশ ঢেকে যায় এমন জুতা পরা
  • হারাম এলাকার মধ্যে কোন গাছ কাটা, পাতা ছেঁড়া বা উপড়ে ফেলা
  • ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হওয়া
  • পুরুষদের ক্ষেত্রে সেলাই যুক্ত কোন পোশাক পরিধান করা

তাওয়াফ বা সায়ি করার সময় কোন নামজের জামাত শুরু হয়ে গেলে কি করনীয় ?
উত্তরঃ অবশ্যই জামাতে অংশগ্রহণ করতে হবে। তবে যেহেতু তাওয়াফ করার সময় পুরুষদের ডান কাঁধ খোলা থাকে কিন্তু নামাজের সময় চাদরের মতো করে গায়ে দিয়ে নামাজ আদায় করতে হবে।

তাওয়াফ করার সময় কিভাবে হাটতে হয় ?
উত্তরঃ  পুরুষদের তাওয়াফের প্রথম তিন চক্কর একটু জোরে বা দৌড়ানোর ভান করে (রমল) হাটতে হয়, তবে খেয়াল রাখতে হবে অন্য মানুষের যেন কোন কষ্টের কারণ না হোন বা আপনার সাথে যদি কেউ থাকে (বাবা / মা / সন্তান / বউ ইত্যাদি) তাঁরা যেন হারিয়ে না যান এবং বাকি চার চক্কর স্বাভাবিক ভাবে হাটতে হয় । কিন্তু মহিলাদের সাতটি চক্করই স্বাভাবিক ভাবে হাঁটতে হয়।

এদতেবা বা ইজতিবা কাকে বলে ?
উত্তরঃ তাওয়াফের আগে পুরুষদের গায়ের ইহরামের কাপড়টি ডান কাঁধ খোলা রেখে ডান হাতের বগলের ভেতর দিয়ে নিয়ে বাম কাঁধের উপর ফেলানোকে এদতেবা বা ইজতিবা বলে।

রমল কাকে বলে ?
উত্তরঃ তাওয়াফের সময় পুরুষদের প্রথম তিন চক্করে বীরের মত দুই কাঁধ ও শরীর দুলিয়ে ঘন ঘন পায়ে দ্রুত চলাকে রমল করা বলে।

কতবার তাওয়াফ বা সায়ি করলাম তা ভুলে গেলে কি করনীয় ?
উত্তরঃ যেটি কম সেটি ধরে বাকিগুলো শেষ করবেন। উদাহরণসরূপ – যদি মনে সন্দেহ আসে যে চার নাকি পাঁচ বার তাওয়াফ করলেন, তবে চার বার ধরে বাকি তিন তাওয়াফ শেষ করবেন।

বদলি ওমরাহ করার বিধান কি ?
উত্তরঃ মৃত কারো নামে ওমরাহ করার ব্যাপারে মোটামুটি সবাই একমত কিন্তু জীবিত কারো জন্য ওমরাহ করার ব্যাপারে কিছুটা দ্বিমত রয়েছে। শারীরিক ভাবে অক্ষম ব্যাক্তির জন্যই কেবল ওমরাহ করা যায়, সুস্থ কারো জন্য নয়। শর্ত থাকে যে, নিজের নামে ওমরাহ করার আগে জীবিত কিংবা মৃত কারো নামে ওমরাহ করা যাবে না। 

এক সফরে কতবার ওমরাহ করা যায় ?
উত্তরঃ এক সফরে এক ওমরাহ করা উত্তম। তবে যদি কোন কারণে মিকাতের বাইরে যান তাহলে আসার সময় মিকাত থেকে ইহরাম বেঁধে আরেকটি ওমরাহ করতে পারবেন, কিন্তু আয়েশা মসজিদ থেকে ইহরাম বাঁধা যাবেনা।

কেউ কেউ বলে কাবা ঘরের দিকে তাকিয়ে তাওয়াফ করা যায় না, এটা কি ঠিক ?
উত্তরঃ কাবা ঘরের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে তাওয়াফ করা ঠিক না তবে তাওয়াফ করার সময় যদি হাঁটতে হাঁটতে কাবার কোন অংশ চোখে পরে তবে কোন সমস্যা নেই।

কোথা থেকে কিভাবে বা কি বলে তাওয়াফ শুরু করতে হয় ?
উত্তরঃ কাবা ঘরের যে কর্নারে হাজরে আসওয়াদ আছে সেই কর্নারের এসে সম্ভব হলে হাজরে আসওয়াদে চুমু খেয়ে (খেয়াল রাখতে হবে যে চুমু খেতে গিয়ে কেউ যেন কষ্ট নায় পায় অথবা মহিলারা অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে গিয়ে নিজের বা অন্যের শালিনতায় ব্যাঘাত না ঘটায়) “বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার” বলে তাওয়াফ শুরু করবেন, হাজরে আসওয়াদে চুমু খাওয়া সম্ভব না হলে হাত দিয়ে স্পর্শ করবেন , আর যদি তাও সম্ভব না হয় তবে হাজরে আসওয়াদ বরাবর এসে (পিছনে সবুজ বাতির চিহ্নটি রেখে) ডান হাত তুলে ইশারা করে “বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার” বা “আল্লাহু আকবার” বলে তাওয়াফ শুরু করবেন। এই সময় হাতে চুমু খাওয়া যাবে না। তাওয়াফের পরের চক্করগুলোতে সম্ভব হলে হাজরে আসওয়াদে চুমু খাবেন বা স্পর্শ করবেন বা ডান হাত দিয়ে ইশারা করে তাকবির বলে (আল্লাহুয়াকবার) তাওয়াফ করা চালিয়ে যাবেন।

তাওয়াফ এর সময় কি রুকনে ইয়ামানি চুমু খেতে হয় ?
উত্তরঃ না চুমু খাওয়া যাবেনা, তবে সম্ভব হলে হাত দিয়ে স্পর্শ করবেন, হাত দিয়ে স্পর্শ করা একটি সুন্নত।

তাওয়াফ বা সায়ি করার সময় কি অজু থাকা বাধ্যতামূলক ?
উত্তরঃ জি, অজু অবস্থায় থাকতে হবে। তবে যদি এই সময় অজু চলে যায় বা প্রসাব – পায়খানার চাপ আসে তাহলে যতটুকু তাওয়াফ বা সায়ি হয়েছে সেটার হিসাব মনে মনে রেখে অজু করে এসে আবার সেখান থেকে শুরু করে বাকিটুকু শেষ করতে হবে।
যদি কারো কোন ওজর থাকে যেমন – পেটে অসুখ, ঘন ঘন বাতাস বের হয় ইত্যাদি কারণে অজু ধরে রাখতে পারেন না তাঁরা অজু চলে গেলেও তাওয়াফ বা সায়ি করা চালিয়ে যেতে পারবেন, এমনকি নামাজও আদায় করতে পারবেন, আবার যদি কোন মাজুল ব্যক্তি থাকেন যেমন – বয়সের ভারে প্রসাব চলে আসে তাঁরা ইহরামের ভিতর জাঙ্গিয়া পরে নিতে পারবেন আর এই সেলাই করা জাঙ্গিয়া পরার জন্য একটা দম বা সাদকা দিতে হবে (একটা ছাগল বা ভেড়া কুরবানি দিয়ে গরিবদের মধ্যে বিতরণ করে দিতে হবে, নিজে খাওয়া যাবেনা)।

ইহরাম অবস্থায় পুরুষদের কখন ডান কাঁধটি খোলা রাখতে হয় ?
উত্তরঃ শুধুমাত্র তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করের সময়, ওমরাহ পালনের বাকি সময় বা সালাত আদায় করার সময় চাদরের মত করে পরতে হবে।

কখন তাওয়াফের নামাজ আদায় করতে হয় ?
উত্তরঃ তাওয়াফের সাতটি চক্কর শেষ করে এই দুই রাকাত নামাজ আদায় করতে হয়, যদি সম্ভব হয় মাকামে ইব্রাহিম কে সামনে রেখে এই নামাজ পড়া উত্তম, আর ভিড়ের কারণে সম্ভব না হলে মসজিদের যে কোন যায়গায় পড়া যাবে। খেয়াল রাখবেন, মহিলারা পরপুরুষদের সাথে দাঁড়িয়ে বা পুরুষরা পরমহিলাদের সাথে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া যাবেনা।

তাওয়াফের নামাজের সুরা কি কি ?
উত্তরঃ সুন্নত হল - প্রথম রাকাতে সুরা ফাতিহার সাথে সুরা কাফিরুন এবং দ্বিতীয় রাকাতে সুরা ঈখলাশ পড়া, তবে অন্য যে কোন সুরা দিয়েও এই নামাজ আদায় করা যাবে।

কোন সময় তাওয়াফের নামাজ আদায় করা যায় না ?
উত্তরঃ যে কোন সময় আদায় করা যায়। এই নামাজের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ কোন সময় নেই।

সায়ি করার সময় পুরুষ এবং মহিলাদের কিভাবে হাটতে হয় ?
উত্তরঃ শুধুমাত্র সবুজ বাতি চিহ্নিত অংশটুকুতে পুরুষদের একটু জোরে বা দৌড়ানোর ভান করে হাটতে হয়, তবে খেয়াল রাখতে হবে যে অন্য মানুষের যেন কোন কষ্টের কারণ না হোন বা আপনার সাথে যদি কেও থাকে (বাবা / মা / সন্তান / বউ ইত্যাদি) তাঁরা যেন হারিয়ে না যায়। কিন্তু মহিলাদের স্বাভাবিক ভাবেই হাঁটতে হয়।

চুল কাটা বা মুন্ডানোর নিয়ম কি ?
উত্তরঃ পুরুষদের চুল মুন্ডানো উত্তম, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) চুল মুন্ডানোর জন্য তিনাবার দুয়া করেছেন আর চুল কাটার জন্য একবার দুয়া করেছেন। মনে রাখবেন, চুল ছোট করার ক্ষেত্রে মাথার যে কোন স্থান থেকে একটু করে কাটলে চলবে না বরং মাথার চতুর্পাশ দিয়ে সমান পরিমান কাটতে হবে। মহিলারা সবগুলো চুল একত্র করে নিজে বা মাহারাম পুরুষ দিয়ে চুলের অগ্রভাগের এক ইঞ্চি পরিমান কেটে নিবেন।
উল্লেখ্য যে, চুল কাটা হলেই ওমরাহ পূর্ণ হয়ে যাবে (পুরুষ বা মহিলা) এবং ইতিপূর্বে যা হারাম ছিল তা হালাল হয়ে যাবে। হালাল হওয়ার জন্য গোসল করা বাঞ্ছনীয় নয়।

নফল তাওয়াফ কিভাবে করতে হয় ?
উত্তরঃ নফল তাওয়াফের জন্য মিকাতে যেতে হয় না বা সায়ি করতে হয় না, যে কোন সময় প্রতিবারের নফল তাওয়াফের জন্য সাতবার চক্কর দিতে হয় এবং তাওয়াফ শেষে দুই রাকাত তাওয়াফের নামাজ আদায় করতে হয়।

ওমরাহ‘র ক্ষেত্রে মক্কা ছেড়ে যাওয়ার আগে বিদায়ী তাওয়াফ করা কি জরুরী ?
উত্তরঃ ওমরাহ‘র ক্ষেত্রে বিদায়ী তাওয়াফ জরুরী কিনা এই ব্যাপারে দ্বিমত আছে তবে সবার মতে করে নেওয়া উত্তম। ঠিক মক্কা ছাড়ার আগ মুহূর্তে বিদায়ী তাওয়াফ করতে হয়। বিদায়ী তাওয়াফ নফল তাওয়াফের মত করে করতে হয়।

মাসজিদুল হারাম এবং মাসজিদুল নববীতে এক রাকাত নামাজে কি পরিমান নেকি পাওয়া যায় ?
উত্তরঃ  মাসজিদুল হারামে এক রাকাতের জন্য এক লক্ষ রাকাতের সমপরিমান এবং মাসজিদুল নববীতে এক রাকাতের জন্য এক হাজার রাকাতের সমপরিমান নেকি পাওয়া যায়।

মাসজিদুল নববিতে ঢুকেই কি আগে কি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর রওজা মোবারকের জিয়ারত করতে হয় ?
উত্তরঃ না, মাসজিদুল নববিতে ঢুকেই আগে দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদের নামাজ আদায় করতে হয়, এরপর হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর রওজা মোবারকের জিয়ারত করা যেতে পারে। উল্লেখ্য যে, এই সময় কোন ওয়াক্তিয়া নামজের জামাত দাড়িয়ে গেলে সবার আগে সেই নামাজ আদায় করতে হবে।

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর রওজা মোবারকের জিয়ারতের সময় তাঁকে সালাম দিলে কি তিনি সালামের জবাব দেন ?
উত্তরঃ হ্যাঁ, আমরা যখন উনার কবরের দিকে তাকিয়ে বলি “আসসালাতু আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসুলুল্লাহ্‌” তিনি তখন সালামের উত্তর দেন। 

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর রওজা মোবারকের পাশে আর কার কার কবর আছে ?
উত্তরঃ  হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর রওজা মোবারকের দিকে ঢোকার দিক থেকে প্রথমে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর কবর, এরপর হযরত আবু বকর (রাঃ) এর কবর এবং শেষে হজরত উমর (রাঃ) এর কবর আছে।

কোন মসজিদে দুই রাকাত নামাজ আদায় করলে একটি ওমরাহ’র সওয়াব পাওয়া যায় ?
উত্তরঃ মসজিদে কুবা, যেটি মদিনায় অবস্থিত। তবে শর্ত থাকে যে, বাড়ি বা হোটেল থেকে অজু করে যেতে হবে।

কখন ওমরাহ করলে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সাথে হজ্জ করার সমান সওয়াব পাওয়া যায় ?
উত্তরঃ রমজান মাসে।

ওমরাহ’র জন্য নির্দিষ্ট কোন দুয়া আছে কি ?
উত্তরঃ জি কিছু দুয়া আছে, নিচে সেগুলোর কয়েকটি দেয়া হল, তবে এসব দুয়াগুলো জানা না থাকলে ওমরাহ করা যাবেনা বা ওমরাহ হবেনা ব্যাপারটি এমন নয়। আবার এক নম্বর তাওয়াফের দুয়া, দুই নম্বর তাওয়াফের দুয়া এরকম ভাবে তাওয়াফকে বা সায়ি’কে নির্দিষ্ট করে কোন দুয়া নেই। এই সময় আপনার মনে হালাল যা চায় তাই আল্লাহ্‌র কাছে চাইতে পারবেন বা দুয়া করতে পারবেন (যে কোন ভাষাতে)।

ক) মাসজিদুল হারামে প্রবেশের দুয়া – 
উচ্চারণ : বিসমিল্লাহি ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহ। আউজুবিল্লাহিল আজিম ওয়া বি-ওয়াজহিহিল কারিম ওয়া সুলতানিহিল কাদিমি মিনাশশায়ত্বানির রাজিম। আল্লাহুম্মাফতাহলি আবওয়াবা রাহমাতিকা।
অর্থ- আল্লাহর নামে শুরু করছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। হে আল্লাহ! আমার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিন। আমার জন্য আপনার রহমতের দুয়ারগুলো খুলে দিন।

খ) রুকনে ইয়ামানি কর্নার থেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত বার বার পরবেন – 
উচ্চারণ: রব্বানা আতিনা ফিদ দুনিয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরতি হাসানাতাও ওয়া ক্কিনা আ’যাবান্নার।
অর্থ: হে আমার প্রভু! আমাকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান কর, আখেরাতেও কল্যাণ দান কর এবং আমাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও।

গ) সাফা পাহাড়ে সায়ি করার জন্য উঠার সময় পরবেন – 
উচ্চারণ: ইন্নাস সফা ওয়াল মারওয়াতা মিং শাআ’ইরিল্লাহ।
অর্থ: নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহ্‌র নিদর্শনসমুহের অন্তর্ভুক্ত।

ঘ) সাফা পাহাড়ে উঠার পর সাফা পাহাড় থেকে কাবার দিকে মুখ করে -
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারিকালাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হাম্দু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িং ক্বদির। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু আনজাযা ওয়া’দাহু ওয়া নাসর আবদাহু ওহাঝামাল আহঝাবা ওয়াহদাহু।
অর্থ : আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোন মা’বূদ নেই, তাঁর কোন শরীক নেই, সকল রাজত্ব ও প্রশংসা তাঁর জন্য; তিনি সমস্ত বস্তুর উপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য মা’বূদ নেই। যিনি স্বীয় ওয়াদা পূরণ করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন, আর তিনি একাই সম্মিলিত বাহিনীকে পরাস্ত করেছেন।

উ) প্রথমবার সাফা থেকে মারওয়া পাহাড়ে যাওয়ার পরে মারওয়া পাহাড় থেকে কাবার দিকে মুখ করে (সাফা পাহাড়ের ন্যায়) – 
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারিকালাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হাম্দু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িং ক্বদির। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু আনজাযা ওয়া’দাহু ওয়া নাসর আবদাহু ওহাঝামাল আহঝাবা ওয়াহদাহু।
অর্থ : আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোন মা’বূদ নেই, তাঁর কোন শরীক নেই, সকল রাজত্ব ও প্রশংসা তাঁর জন্য; তিনি সমস্ত বস্তুর উপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য মা’বূদ নেই। যিনি স্বীয় ওয়াদা পূরণ করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন, আর তিনি একাই সম্মিলিত বাহিনীকে পরাস্ত করেছেন।

দম দেয়া কি এবং এটি কখন প্রয়োজন হয় ?
উত্তরঃ দম দেয়া হল - একটি ছাগল বা দুম্বা বা কুরবানি যোগ্য কোন পশু কুরবানি দেয়া এবং সম্পূর্ণ গোস্তটি মক্কায় মাসজিদুল হারামে গরীবদের মধ্যে বিতরণ করে দেয়া। ওমরাহকারী নিজে এই কুরবানির গোস্ত খেতে পারবেন না।
কেও যদি ওমরাহ’র নিয়ত না করে মিকাত অতিক্রম করে ফেলে তবে তাঁকে অবশ্যই আবার নিকটস্থ মিকাতে এসে নিয়ত করে ওমরাহ করতে যেতে হবে। আর যদি তা না করে তবে একটি দম দিতে হবে। আবার ইহরাম বাঁধার বা ওমরাহর নিয়ত করার পর কিছু নিষিদ্ধ কাজ রয়েছে যেগুলোর কোনটা করলেও দম দিতে হবে।

মাযারত বা জিয়ারত বা জিয়ারাহ কাকে বলে ?
উত্তরঃ মক্কা মদিনায় অনেকগুলো ইসলামিক ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে। এসব স্থান গুলোকে দর্শন করাকেই জিয়ারত করা বলা হয়।